ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ফিফা। সদস্যদেশগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে সংস্থাটির আলাদা প্রভাব রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত উদ্যোগকে ঘিরে সেই ফিফাকেই এবার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়ে পরিকল্পনা প্রত্যাহার করতে হয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উদ্যোগে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রকল্পের ঘোষণা আসে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় বড় প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা সামনে আসে। প্রকাশ্যে আসার পরপরই ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফিফার সদস্যদেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা করা হয়েছিল কি না।
বিষয়টি নিয়ে ফিফার ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সংস্থাটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও উদ্যোগটির বিষয়ে আগে অবগত ছিলেন না বলে জানা যায়। ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও পরিকল্পনাটি সম্পর্কে আগে জানতেন না বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠলে ফিফা সভাপতি জরুরি বৈঠক করেন। পরে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিষয়টি সামনে চলে আসায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলে আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হয়।
ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়, সদস্যদেশগুলোকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ঘোষণাটি আগেভাগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ফিফার অবস্থান ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। রেফারি, সাংবাদিক ও সংগঠকদের প্রবেশসংক্রান্ত ঘটনা, খেলোয়াড়ের শাস্তি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও ফুটবল মহলে অসন্তোষ রয়েছে।
ফলে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বিতর্ক শুধু একটি প্রকল্প প্রত্যাহারের ঘটনা নয়; এটি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের স্বচ্ছতা এবং ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একসময় যে সংস্থাকে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে দেখা হতো, সেই ফিফাকেই এবার প্রকাশ্যে নিজেদের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে ও ক্ষমা চাইতে হয়েছে।








