যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০৩টি জাহাজ প্রবেশ করেছে এবং ৮৯টি জাহাজ বের হয়েছে। যুদ্ধের আগে একই সময়ে যে পরিমাণ জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করত, বর্তমান সংখ্যা তার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউকেএমটিওর তথ্য বলছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মোট কমে যাওয়া জাহাজের প্রায় ৪৫ শতাংশই তেলবাহী ট্যাংকার।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের তৎপরতার কারণে নৌপথটিতে এখনো স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসেনি। জাহাজের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়ানো, রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে জাহাজকে সতর্ক করা কিংবা থামানোর চেষ্টা এবং বিভিন্ন এলাকায় মাইন থাকার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে নাবিক ও জাহাজ পরিচালনাকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ওমানের উপকূলসংলগ্ন নৌপথকে বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউকেএমটিও জানিয়েছে, গত ৬ জুলাইয়ের পর নৌপথে রিপোর্ট হওয়া ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল হামলার মধ্যে ১৬টিই এই এলাকায় ঘটেছে।
নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজ মালিক ও পরিচালনাকারীরা বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে এর প্রভাব বিভিন্ন দেশের বাজারে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ৮০ শতাংশ কমে যাওয়ার ঘটনা তাই শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই










