রকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন করে চার পূর্ণমন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। নতুন চার মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন আবদুল মঈন খান, সাচিং প্রু জেরী, আন্দালিভ রহমান পার্থ ও এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির ও শামীম কায়সার লিংকন।
তাদের দায়িত্ব ও রাজনৈতিক পরিচয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
আবদুল মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম অভিজ্ঞ রাজনীতিক। নরসিংদী-২ আসন থেকে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরনগরদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মঈন খান। তার বাবা আবদুল মোমেন খান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী।
১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথমে তথ্যমন্ত্রী এবং পরে বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন তিনি।
সাচিং প্রু জেরী
বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন।
১৯৫৩ সালের ১৫ জানুয়ারি বান্দরবানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বোমাং সার্কেলের রাজপরিবারের সন্তান সাচিং প্রু জেরী ১৯৯৬ সালে প্রথমবার বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়ী হন।
এর আগে বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
আন্দালিভ রহমান পার্থ
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন পার্থ। তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র।
২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর বিজেপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন পার্থ। একই বছর ভোলা-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও সংসদ সদস্য হয়ে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন তিনি।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মিল্লাত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
১৯৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রায় দুই দশক পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য হন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কয়েক মাসের মধ্যেই পূর্ণমন্ত্রী হলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হুমায়ুন কবিরের জন্মসূত্রে সিলেটের ওসমানীনগরের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসের পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনীতি ও সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়েও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এর আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফলে এখন এ মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন।
শামীম কায়সার লিংকন
গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
১৯৮০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা আবদুল মোত্তালেব আকন্দ ২০০১ সালে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০০৬ সালের উপনির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন শামীম কায়সার। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে জয়ী হন তিনি।
শিক্ষাজীবনে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। মালয়েশিয়া থেকেও উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন তিনি।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তার অধীনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শামীম কায়সার লিংকন।
নতুন ছয় সদস্যের অন্তর্ভুক্তির ফলে মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। মন্ত্রিসভার এই রদবদলের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে এবং একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন হয়েছে।










