ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক নারীকে কেন্দ্র করে আপন দুই ভাই ও তাদের স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা থানার চত্বরে একটি বিষয় মীমাংসার সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই ভাইসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থানা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচড়া গ্রামের আজিজুল হকের বড় ছেলে একরাম আলী পাশের গ্রামের পূর্ণিমা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর পূর্ণিমার সঙ্গে একরামের ছোট ভাই আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ পূর্ণিমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান এবং পরে তারা অন্যত্র গিয়ে সংসার শুরু করেন।
শনিবার পূর্ণিমার পরিবারের সদস্যরা সাভার থেকে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি সামাজিক ও আইনি উপায়ে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষের স্বজনরা থানায় উপস্থিত হন। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে দুই ভাই ও তাদের স্বজনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পূর্ণিমাকে নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে টানাটানিও শুরু হয়। এতে একরাম আলী, আব্দুল্লাহ ও পূর্ণিমাসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে থানা চত্বর থেকে বের করে দেয়। এ সময় ঘটনাটি দেখতে থানার সামনে শত শত মানুষ জড়ো হন।
পূর্ণিমার দাবি, প্রথম স্বামী একরাম ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ কারণে তিনি একরামকে ছেড়ে আব্দুল্লাহকে বিয়ে করেন এবং পরে দুজন বাড়ি থেকে চলে গিয়ে অন্যত্র সংসার শুরু করেন।
ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, থানার গেটের সামনে এক নারীকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের থানা চত্বর থেকে বের করে দেয়। ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










