কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এক যাত্রী। চলন্ত ট্রেনের জানালায় আঘাত করা পাথরটি তার মাথায় লাগার পর প্রচুর রক্তপাত শুরু হয়। ট্রেনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় পরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চিকিৎসক খোঁজা হয়। শেষ পর্যন্ত একজন জ্যেষ্ঠ সার্জনসহ কয়েকজন চিকিৎসক আহত যাত্রীকে দেখে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা সোয়া তিনটার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত যাত্রীর নাম শাহীন আহমদ (৩৯)। তিনি ঢাকার উত্তরা আয়কর কার্যালয়ের প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত।
রেলওয়ে ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার এক্সপ্রেস কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকা ছাড়া অন্য কোনো স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে না। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার স্টেশন থেকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বেলা সোয়া তিনটার দিকে লোহাগাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। জানালার পাশে বসে থাকা শাহীন আহমদের মাথায় পাথরটি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
শাহীন জানান, কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে মাদকবিরোধী বার্তা নিয়ে আয়োজিত একটি ম্যারাথন কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি সহকর্মী ও আয়কর আইনজীবী নজরুল ইসলামের সঙ্গে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। কর্মসূচি শেষে তারা কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
ট্রেনে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর তিনি জানালা সামান্য খুলে বাইরে তাকিয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি পাথর এসে তার মাথায় আঘাত করে। এতে মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। ট্রেনে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও রক্তপাত বন্ধ হচ্ছিল না।
পরিস্থিতি দেখে ট্রেনে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না জানতে চাওয়া হয়। পরে একজন জ্যেষ্ঠ সার্জনসহ কয়েকজন চিকিৎসক এগিয়ে এসে আহত শাহীনকে পরীক্ষা করেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
এরপর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে আহত যাত্রীকে নামিয়ে দেয়। সহকর্মী নজরুল ইসলামের সহায়তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে বোয়ালখালীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মাথায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ওই দিনই বিমানে করে তিনি ঢাকায় ফিরে যান। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ রয়েছেন।
এদিকে একই ট্রেনে এর আগে বেলা দুইটার দিকে রামু-ইসলামাবাদ এলাকায়ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে একটি বগির জানালার কাচ ভেঙে গেলেও কেউ আহত হননি।
পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবদুস সালাম ভূঁইয়া বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে শাহীন আহমদ নামের এক যাত্রীর মাথা ফেটে গেছে। ট্রেনে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ শুধু যাত্রীদের আহতই করে না, বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করে। বিশেষ করে জানালার পাশে বসা যাত্রীদের জন্য এ ধরনের হামলা অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটলে ট্রেনের নিরাপদ চলাচলও ব্যাহত হতে পারে। তাই পাথর নিক্ষেপের স্থানগুলো চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।









