ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিষয়ে কার্যকর ও সঠিক তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের অন্য দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির একটি নোটিশের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের বিষয়ে এমন তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা তাদের অবস্থান, কার্যক্রম বা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ও কার্যকর তথ্য প্রদানকারীরা আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় অন্য কোনো দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে তথ্যের কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিতেই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট নোটিশে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যেসব পাঁচজন আইআরজিসি কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য চেয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসির কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদি। তালিকায় আরও রয়েছেন খাতিমুল আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের প্রধান আলি আব্দুল্লাহি, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন কমান্ডার সাঈদ আগাজানি, আইআরজিসি সাইবার ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লাশগারিয়ান এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা দপ্তরের কমান্ডার মাজিদ খাদেমি।
আইআরজিসি ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সাইবার কার্যক্রম ও গোয়েন্দা সক্ষমতার সঙ্গে এই বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সরাসরি যুক্ত। ফলে আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চলমান চাপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।
১ কোটি ডলারের এই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান এই ধরনের মার্কিন উদ্যোগকে কীভাবে দেখবে এবং এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়বে কি না, সেটিও এখন নজরে থাকবে।










