মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারত সরকার হয়তো রাজনৈতিকভাবে দায়ভার নিতে চাইছে না। তাই বিষয়টি দেশটির বিচার বিভাগের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত আনা এবং তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ভারতের সরকার শেখ হাসিনার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দায়ভার নিতে চাইছে না বলেই হয়তো বিষয়টি তাদের জুডিশিয়ারির ওপর দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শেখ হাসিনার জন্য খুব একটা সুখকর নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ শেখ হাসিনাসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে দেশে ফেরত চায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি একটি মানসিকতার বিষয়। তার অভিযোগ, গত ১৭ বছর ধরে সমালোচনা গ্রহণ করার মতো মানসিকতা ছিল না। ভিন্নমত ও সমালোচনার প্রতি সহনশীলতার অভাবের কারণেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, কাউকে বন্ধ করে দেওয়া বা থামিয়ে রাখার মানসিকতা বর্তমান সরকারের নেই। ভিন্নমত ও সমালোচনাকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে পুরো ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ১৭ বছরে সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে এনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বর্তমান সংকট মোকাবিলা এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া এবং ভারতের অবস্থান নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া এই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।










