লাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৪০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।
ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক পানির প্রবল স্রোতে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি, যানবাহন ও বহুতল ভবন তলিয়ে যাওয়ার ভয়াবহ দৃশ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর প্রবাহ তুষারধসে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে আটকে যায়। পরে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ভোতেকোশি নদীতে নেমে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, কারণ ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত না থাকায় অনেকেই আগাম কোনো সতর্কবার্তা পাননি। আকস্মিক পানির স্রোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বন্যায় অন্তত নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের নয়টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা পানিতে ভেসে গেছে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী ভারত ও চীন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও সহযোগিতা করছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুই কর্মী ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাবু ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী রয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও ইউনিসেফও নেপালে কর্মী ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।










