মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অসুস্থ গরু জবাইয়ের প্রস্তুতি এবং তাজা মাংসের সঙ্গে বাসি মাংস মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগে দুই মাংস ব্যবসায়ীকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী মাংস জব্দ করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার কনকসার বাজার ও মালিরঅংক বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ববি মিতুর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
অভিযানের শুরুতে কনকসার বাজারসংলগ্ন এলাকায় ইব্রাহীম মুন্সির বাড়ির পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি অসুস্থ গরু জবাইয়ের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য পাশের খালে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানা যায়। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ লঙ্ঘনের দায়ে ইব্রাহীম মুন্সিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে অসুস্থ গরুটি জব্দ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরে মালিরঅংক বাজারে মো. নাদিম মৃধার মাংসের দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তাজা মাংসের সঙ্গে বাসি মাংস মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। এমনকি মাংসে প্রচুর পোকামাকড়ের উপস্থিতিও দেখতে পান কর্মকর্তারা। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কসাইয়ের লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।
এসব অনিয়মের দায়ে নাদিম মৃধাকেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে খাওয়ার অনুপযোগী মাংস জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কালীশংকর পাল ও উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কাসেমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন। স্থানীয় লোকজনও অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।










