বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়া নিয়ে অনেক মুসল্লির মধ্যেই বিভিন্ন সময় ভুল হয়ে থাকে। বিশেষ করে তৃতীয় রাকাতে দোয়া কুনুত পড়ার কথা মনে না থাকায় অনেকে সরাসরি রুকুতে চলে যান। পরে বিষয়টি মনে পড়লে কীভাবে নামাজ সম্পন্ন করবেন, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়। ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করিম আবরার এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান তুলে ধরেছেন।
তিনি জানান, বিতরের নামাজে ভুলবশত দোয়া কুনুত পড়া বাদ পড়ে গেলে রুকু থেকে উঠে পুনরায় দাঁড়িয়ে দোয়া কুনুত পড়ার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, কোনো মুসল্লি তৃতীয় রাকাতে দোয়া কুনুত পড়ার আগে ভুল করে রুকুতে চলে গেলে সেখান থেকে আবার কিয়ামে ফিরে এসে দোয়া কুনুত পড়া উচিত নয়।
মুফতি রেজাউল করিম আবরারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভুল বুঝতে পারলেও নামাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রুকু থেকে উঠে স্বাভাবিক নিয়মে পরবর্তী অংশ আদায় করতে হবে। কারণ রুকুতে চলে যাওয়ার পর আগের অবস্থানে ফিরে গিয়ে দোয়া কুনুত পড়ার চেষ্টা করলে নামাজের নিয়মে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের ভুল মানুষের অনিচ্ছাকৃত বিস্মৃতির কারণে হয়ে থাকে। নামাজে কোনো বিষয় ভুলে যাওয়া বা বাদ পড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামে সংশোধনের নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। তাই ভুল হয়ে গেলে অযথা দুশ্চিন্তা না করে সংশ্লিষ্ট মাসআলা অনুযায়ী নামাজ সম্পন্ন করা উচিত।
বিতরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়তে ভুলে রুকুতে চলে গেলে মুসল্লির উচিত রুকু থেকে ফিরে এসে নতুন করে দোয়া কুনুত না পড়া। বরং নামাজের পরবর্তী অংশ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাহু সিজদা আদায় করতে হবে।
ইসলামি বিধান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে ব্যক্তিগত অনুমান বা প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য আলেম ও ইসলামি স্কলারদের কাছ থেকে সঠিক মাসআলা জেনে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে সংশয় তৈরি হলে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
মুফতি রেজাউল করিম আবরার তার ইউটিউব চ্যানেলে বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়তে ভুল হলে করণীয়সহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভুলবশত রুকুতে চলে যাওয়ার পর আবার কিয়ামে ফিরে গিয়ে দোয়া কুনুত পড়ার প্রয়োজন নেই। বরং নামাজের নিয়ম বজায় রেখে তা সম্পন্ন করতে হবে।










