বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নিজের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক যত বাড়বে, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রও তত বিস্তৃত হবে।
এ সময় স্থানীয় সরকার খাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আলোচনা সাপেক্ষে তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে ভূমিকা রাখতে পারে।










