আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী আব্বাস মল্লিক। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এ দশম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন।
৬০ বছর বয়সী আব্বাস মল্লিক বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদুয়ানী গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় জেলে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে র্যাব সদস্যরা চরদুয়ানী ও কাঠালতলী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং স্থানীয় বোট মালিকদের বিভিন্ন অভিযানে নিয়ে যেতেন।
আব্বাসের দাবি, রাতের দিকে ঢাকা থেকে আনা হাত-পা ও চোখ বাঁধা বন্দিদের বোটে তোলা হতো। এরপর বোট গভীর নদীতে নিয়ে যেতে বলা হতো। সেখানে বন্দিদের একে একে বের করে র্যাব সদস্যরা চেপে ধরে রাখতেন এবং জিয়া স্যার নামে পরিচিত এক কর্মকর্তা তাদের গুলি করতেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষীর ভাষ্য, হত্যার পর মরদেহের পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করে দেওয়া হতো। পরে গলায় বা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। সুন্দরবন এলাকায়ও বন্দিদের হত্যা করে ঘটনাগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।
আব্বাস আরও জানান, বোটে হত্যাকাণ্ডের পর রক্ত ও মরদেহের অংশ পরিষ্কার করতে তাদের বোট ধুয়ে আনতে হতো। পরে জিয়া স্যারের পক্ষ থেকে মাঝিদের খামে করে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হতো বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।
জবানবন্দিতে নিজের ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন আব্বাস। তার দাবি, ২০১১ সালের মাঝামাঝি র্যাবের পরিচয়ে ফোন পেয়ে আলকাছ ‘জিয়া স্যারের’ সঙ্গে দেখা করতে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও জিয়াউল আহসান বা র্যাবের নাম উল্লেখ করা হয়নি বলে জানান তিনি।
জবানবন্দি শেষে আব্বাস মল্লিককে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন মিজানুল ইসলামসহ অন্য প্রসিকিউটররা।










