জীবনে সফল হতে আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, কারও কাজের তুলনায় নিজের যোগ্যতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পরও কমে না সেই আত্মবিশ্বাস। বাইরে থেকে এটিকে অহেতুক আত্মবিশ্বাস বা আত্মপ্রতারণা মনে হলেও সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এর পেছনে মানুষের বিবর্তনগত একটি কারণ থাকতে পারে।
‘সাইকোলজিক্যাল রিভিউ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথ ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের গবেষকেরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকে অনেকটা পুরুষ ময়ূরের পেখমের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ময়ূরের বড় ও ভারী পেখম তার চলাফেরা ও উড়তে অসুবিধা তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি শিকারির দৃষ্টি আকর্ষণের ঝুঁকিও বাড়ায়। তারপরও শক্তিশালী ময়ূর এই পেখম বহন করে টিকে থাকতে পারে। গবেষকদের মতে, মানুষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও অনেকটা এমন একটি সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, কেউ নিজের যোগ্যতা নিয়ে বড় দাবি করলে তার সেই আত্মবিশ্বাস অন্যদের কাছে সক্ষমতার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা দিতে পারে।
গবেষক ক্রিস ডসন ও ডেভিড ডি মেজার মতে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত বা ঝুঁকি নেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে প্রকৃতপক্ষে দক্ষ ব্যক্তিরা এসব ভুলের ক্ষতি সামলে নেওয়ার সক্ষমতা বেশি রাখেন। ফলে তারা তুলনামূলক বেশি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেও টিকে থাকতে পারেন।
গবেষণায় চার হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, পরীক্ষায় তাদের প্রকৃত ফলও তুলনামূলক ভালো ছিল।
তবে মানুষের আচরণে ‘লস এভারশন’ বা ক্ষতির ভয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যেমন ঝুঁকি নেওয়ার সাহস বাড়ায়, ক্ষতির ভয় তেমনি বড় বিপদ থেকে মানুষকে পিছিয়ে দেয়। গবেষকদের মতে, এই দুই বিপরীত প্রবণতার ভারসাম্যই মানুষকে সুযোগ গ্রহণ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।










