নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে বিশেষ ইউনিট গঠন, অমীমাংসিত মামলার পুনঃতদন্ত ও শিশু পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
বাংলাদেশে নিখোঁজ থাকা প্রায় দুই হাজার শিশুকে দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৃথক বিশেষ সেল বা ইউনিট গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আমার সন্তান কোথায়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘মুন পরিবার’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাদাত রহমান লিখিত বক্তব্য দেন। পাশাপাশি ফাউন্ডেশনের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার মারুফ হায়াতসহ নিখোঁজ শিশুদের ৪০টি পরিবারের সদস্য বক্তব্য দেন।
নিখোঁজ শিশু তানজিলার ভাই শাকিল হোসেন বলেন, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক বাবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সন্তান অপহরণের অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী ডিসিকে ফোন করে শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে পুলিশের তৎপরতায় এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, অন্য নিখোঁজ শিশুদের বাবা-মায়েরাও কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং তাদের সন্তানদের উদ্ধারে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না।
শাকিল হোসেন বলেন, নিখোঁজ শিশুদের পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি পৌঁছাতে পারছে না। তাই তাদের সঙ্গে বসে কষ্টের কথা শোনা এবং শিশুদের উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট গঠনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা, অমীমাংসিত মামলাগুলোর পুনঃতদন্ত, শিশু পাচার প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫১টি নিখোঁজের জিডি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে আরও ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি। এসব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।










