দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ জনে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩১৪ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৩১৪ জন ডেঙ্গু রোগী চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ ভর্তির নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রেকর্ড হয়েছিল তার আগের দিন। সেদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৫৫৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
পরপর দুই দিনে বিপুলসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারা দেশের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে শুধু রাজধানী বা ঢাকা বিভাগেই রোগটির বিস্তার সীমাবদ্ধ নেই। দেশের অন্যান্য বিভাগেও প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
ডেঙ্গুর প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে সরকারি হিসাব মূলত হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ওপর নির্ভর করায় মোট আক্রান্তের পূর্ণ চিত্র এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের পাশাপাশি প্রচণ্ড দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক অবসাদ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে এক দিনে ১ হাজার ৩১৪ জনের হাসপাতালে ভর্তি এবং আরও চারজনের মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১২১ জনে পৌঁছানোয় ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতাও জরুরি হয়ে উঠেছে।










