ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান হৃদয়কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইয়ের দাবি, পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ। তিনি বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ড পার্স উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আলমগীর কবির, তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন এবং তাঁদের নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নামে ঢাকা জেলা পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালান। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জানান, নিহত নাজমার সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানতে পেরে নাজমার স্বামী আলমগীর সম্প্রতি জামগড়া এলাকায় বাসা পরিবর্তন করেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হৃদয় তাঁদের নতুন বাসায় যান। সেখানে নাজমা ও আলমগীরের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে হৃদয় অন্তঃসত্ত্বা নাজমার পেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই নাজমার মৃত্যু হয় এবং মৃত নবজাতকের জন্ম হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এরপর আলমগীর এগিয়ে এলে তাঁকেও গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান। পরে তিনজনের মরদেহ কক্ষের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত হৃদয়—এমনটাই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মরদেহগুলো উদ্ধারের সময় সেগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। তালাবদ্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অন্যান্য বিষয় আরও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তের দিকে নজর ছিল স্থানীয়দের। প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের পর এখন হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা, এর পেছনের কারণ এবং অভিযুক্তের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য আলামতের মিল রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।










