পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের মিঠাখালী আলম বাজার এলাকায় বিএনপির একটি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি এলইডি টেলিভিশন ভাঙচুর করে। একই সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গভীর রাতে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা বিভিন্ন জিনিসপত্রে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে ভাঙচুরের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে। পুলিশ সেখান থেকে দুটি ভাঙা প্লাস্টিকের চেয়ার, একটি ভাঙা এলইডি টেলিভিশন ও একটি ভাঙা তালা উদ্ধার করে। এ ছাড়া কার্যালয় থেকে লাল স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজী বলেন, রাতে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কার্যালয় থেকে অবিস্ফোরিত দুটি ককটেল উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ। এগুলো কারা সেখানে রেখেছিল এবং ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে বা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।










