চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান।
হাসপাতালে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তার চিকিৎসার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহত সেনা কর্মকর্তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অবগত হন।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। অনুশীলনের একপর্যায়ে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুতে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, অনুশীলনের সময়কার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিও এ ধরনের ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে হাটহাজারীর দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় এ ঘটনা ঘটেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর সিএমএইচে গিয়ে আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখার বিষয়টি দুর্ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে আহত সেনা কর্মকর্তার চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।










