মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ। একই সঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি। শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় সংঘাত আরও বিস্তৃত বা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। সংকট মোকাবিলায় সংযম দেখানোর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ব্রিকস।
একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং নৌ চলাচলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব যেন সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর আরও বড় ধরনের চাপ তৈরি না করে, সে বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বা আইএইএর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামো এবং আইএইএর নজরদারির আওতায় থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা গভীর উদ্বেগের বিষয়। যুদ্ধ বা সংঘাতের মধ্যেও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে মানুষ ও পরিবেশকে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গাজা, লেবানন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। এসব অঞ্চলে সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
ব্রিকসের এবারের যৌথ বিবৃতিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই অবস্থার পর এবার ১১ সদস্য দেশের সম্মিলিত অবস্থান প্রকাশকে কূটনৈতিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের সম্মেলনে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার মতপার্থক্য কমাতেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানে পার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের এই যৌথ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা সংঘাতের গতিপথ তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দেবে, এমন সম্ভাবনা কম। তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলো আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং সংকট নিয়ে একটি সমন্বিত অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে, যৌথ বিবৃতিতে তারই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর বলেন, যুদ্ধ বন্ধের মূল চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাতে। তবে তার মতে, ভারত এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে অঞ্চলটির দেশগুলো একই টেবিলে বসে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।










