হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এসব শর্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকবে। ইরানের গণমাধ্যমে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে ওই সাতটি শর্তের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঠিক কী কী শর্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরান সম্মত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের সঙ্গে ওমানের সাম্প্রতিক একটি সমঝোতাকেও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না তেহরান। ইরানি সূত্রগুলোর মতে, ওমানের সঙ্গে সমঝোতা থাকলেও প্রণালিটি কবে খুলবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে ইরানের মূল্যায়নের ওপর।
ইরান ওমানের নতুন নৌপথ
হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ইরান ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। প্রস্তাবিত নৌপথটি পুরোপুরি ইরানের জলসীমার মধ্যে থাকবে এবং ইরানের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওমানে অনুষ্ঠেয় একটি বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করা হতে পারে। তবে ইরান আবারও স্পষ্ট করেছে, ওমানের সঙ্গে এই সমঝোতার অর্থ হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়া নয়।
ইরান ও ওমানের মাঝামাঝি অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই নৌপথের গুরুত্ব অনেক। ফলে দীর্ঘ সময় প্রণালি বন্ধ থাকলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর
এর মধ্যেই রোববার ভোরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেংগাম দ্বীপ ও কেশম দ্বীপের শিব দেরাজ উপকূলের কাছে ভোর ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
কেশমের গভর্নর আমির তাইমুরি দাবি করেছেন, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এতে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। তবে হামলার শিকার জাহাজটির পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আরেকটি জাহাজ অজ্ঞাত একটি অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরপর এসব ঘটনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের শর্তগুলো কী এবং যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো মেনে নেয় কি না, তার ওপর প্রণালিটির ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল অনেকাংশে নির্ভর করছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।










