মুরগি কাটার সময় পেটের ভেতরে আস্ত, ছোট বা আধা-গঠিত ডিম পাওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত বিষয়। কেউ এসব ডিম রান্না করে খেয়ে থাকেন, আবার অনেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় ফেলে দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ডিমটি কী অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মুরগির পেটে পাওয়া ডিম যদি খোলস বা পাতলা স্বাভাবিক আবরণের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় থাকে, তাহলে তা খাওয়া যেতে পারে। তবে মুরগি কাটার সময় ডিমটি বের করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। ডিম ভেঙে গেলে বা মুরগির নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য এর গায়ে লেগে গেলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পিত্তথলি বা নাড়িভুঁড়ি ফেটে বর্জ্য ডিমের ওপর পড়লে সেটি অতিরিক্ত দূষিত হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডিমটি ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।
এ ছাড়া ডিম থেকে দুর্গন্ধ বের হলে সেটিও খাওয়া উচিত নয়। ডিমটি অক্ষত থাকলেও যদি দূষণের মাত্রা বেশি হয়, তাহলে ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো।
রান্নার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ডিমের গায়ে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে টিস্যু দিয়ে হালকাভাবে পরিষ্কার করা যেতে পারে। এরপর দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ না করে দ্রুত রান্না করা ভালো। যে পদেই রান্না করা হোক, ডিমটি ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করতে হবে। অল্প সময় বা কম তাপে রান্না করলে ভেতরের অংশ কাঁচা থেকে যেতে পারে। তাই মাঝারি আঁচে পর্যাপ্ত সময় রান্না করা জরুরি।
ডিমটি পুরোপুরি সেদ্ধ হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে একটি ডিম আলাদা করে কেটে ভেতরের অংশ পরীক্ষা করা যেতে পারে। ভেতরটা নরম বা কাঁচা থাকলে আরও কিছু সময় রান্না করতে হবে।
পুষ্টির দিক থেকেও মুরগির পেটে থাকা ডিমে আমিষ, আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকতে পারে। তবে এতে কোলেস্টেরলও রয়েছে। তাই যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগ রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত ডিম বা কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিমটি দূষিত হয়েছে কি না এবং ভালোভাবে রান্না হয়েছে কি না। সঠিকভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও রান্না করা হলে ঝুঁকি কমানো যায়। অন্যদিকে দূষিত বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা ডিমে সালমোনেলার মতো জীবাণুর কারণে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার আশঙ্কা থাকতে পারে।










