নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ এনে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
বিএনপি সমর্থক শফিকুল ইসলাম গত ১১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। এতে গণঅধিকার পরিষদের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার দুই ভাই মো. আল-আমিন ভূঁইয়া ও মো. সাজিব ভূঁইয়াসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মামলায় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর আরেকটি মামলা করেন আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার ব্যবসায়িক অংশীদার ও সমর্থক। ওই মামলায় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ও সমর্থকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, শহিদুল্লাহ, নবী হোসেন, আয়াত উল্লাহ, সুবেদ আলী, রাজা মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মোস্তফা কামালের নাম রয়েছে। মোস্তফা কামাল ও মোহাম্মদ আলী সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক দুই সভাপতি বলে মামলার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় জমির ৬০ শতাংশ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিএনপি সমর্থকদের দাবি, তারা কয়েকজন মিলে জমিটির অংশ ১ কোটি ৩০ লাখ টাকায় বায়না রেজিস্ট্রি করে ভোগদখলে ছিলেন। তাদের অভিযোগ, ৩ সেপ্টেম্বর অপর পক্ষের লোকজন জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয় এবং এ সময় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহত কয়েকজন নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তবে গণঅধিকার পরিষদের নেতা আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা মূল মালিকদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমির ৪৫ শতাংশ বায়না করেছিলেন। অন্য পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তাদের জমির অংশসহ ৬০ শতাংশ জমি বায়না করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরিফুলের দাবি, ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি অফিসের তদন্তের সময় বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ করে। পুলিশ জানায়, দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।










