লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আইফোন হাতুড়ি দিয়ে প্রকাশ্যে ভেঙে দিয়েছেন এক শিক্ষক। বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ফোনটি ভেঙে ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন না আনার বিষয়ে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে সেটি বিনষ্ট করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। পরে সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আইফোন ৬ মডেলের ফোনটি উদ্ধার করেন। এরপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের মাঠে হাতুড়ি দিয়ে ফোনটি ভেঙে ফেলা হয়।
শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান বলেন, বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের পড়ে শোনানোও হয়েছে। এরপরও এক শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়ায় নোটিশ অনুযায়ী সেটি প্রকাশ্যে বিনষ্ট করা হয়েছে। তার দাবি, অন্য শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ৯ সেপ্টেম্বরের নোটিশে শুধু মোবাইল ফোন নয়, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ সংক্রান্ত আরও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পোশাক পরিধান, পরিপাটি থাকা এবং ছোট চুল রেখে বিদ্যালয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর টিকটক আইডি থাকা কিংবা টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেলে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন আহমেদ বাহার বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগে থেকেই নোটিশের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অনেকে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্পদ এভাবে নষ্ট করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।










