কক্সবাজারের উখিয়ায় মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ দুই যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার পালংখালী সীমান্তের আনজুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক দুজন হলেন উখিয়ার আনজুমানপাড়া গ্রামের মৃত বশির আহমেদের ছেলে মো. নুর ইসলাম (২৫) এবং উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প ১৫ এর বাসিন্দা মৃত হাচানের ছেলে মো. হারেস (২০)।
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল আনজুমানপাড়া পানির পয়েন্টের উত্তর পাশে বাবুলের ঘেরের দক্ষিণ দিকে বেড়ির ওপর অবস্থান নেয়। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে ব্যাগ হাতে দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দিলে ওই দুই ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে টহল দলের সদস্যরা ধাওয়া করে তাদের আটক করেন। এরপর তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও পলিব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ১৪টি কার্টন পাওয়া যায়। এসব কার্টনের ভেতর থেকে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয় এবং আটক দুজনকে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন জানিয়েছেন, তারা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। পরে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন তারা।
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাদকের সরবরাহকারী ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।










