রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ‘হাওর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি কোচে আগুন লাগার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগুন লাগার কারণ এবং এ ঘটনায় কোনো ধরনের নাশকতা বা অন্য কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে কমিটি কাজ করবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ঢাকা অঞ্চলের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কমান্ড্যান্ট, বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) এবং রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। কমিটির সদস্যরা আগুন লাগার কারণ, কোচের ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করবেন।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ‘হাওর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি কোচে হঠাৎ আগুন দেখা যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে, রাত ৯টা ৫২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় আগুন অন্য কোচ বা স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়েনি।
ঢাকা বিভাগ রেলওয়ের ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, আগুনে ‘হাওর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি কোচ পুড়ে গেছে। আগুন দ্রুত পুরো কোচে ছড়িয়ে পড়ার আলামত দেখে তিনি ধারণা করছেন, পেট্রোল বা গানপাউডার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক ধারণা; তদন্তের মাধ্যমে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার কথা।
তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কোচ পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করবে। আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে এবং কীভাবে তা দ্রুত পুরো কোচে ছড়িয়ে পড়ল, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, তদন্তের পর প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে কারও দায় বা কোনো ধরনের নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









