ইসলামে গিবত বা পরনিন্দা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো দোষের কথা বলা, যা শুনলে তিনি অসন্তুষ্ট হবেন, সেটিই গিবত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) গিবতের সংজ্ঞা দিতে বলেছেন, কারও এমন বিষয় আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে। বিষয়টি সত্য হলে তা গিবত, আর মিথ্যা হলে তা অপবাদ হিসেবে গণ্য হয়।
কোরআনে গিবতের ভয়াবহতা বোঝাতে একে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তবে ইসলামি শরিয়তে কিছু বৈধ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কারও দোষের কথা বলা অনুমোদিত।
ইমাম নববি (রহ.)-এর আলোচনায় এমন ছয়টি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
১. অন্যায় বন্ধ করতে সহযোগিতা চাওয়া: কারও অন্যায় বন্ধ করতে সক্ষম ব্যক্তির কাছে বিষয়টি জানানো যেতে পারে। তবে উদ্দেশ্য হতে হবে অন্যায় বন্ধ করা, অপমান করা নয়।
২. শরিয়তের বিধান জানতে চাওয়া: কোনো ব্যক্তি নিজের সমস্যার শরিয়তসম্মত সমাধান জানতে আলেম বা মুফতির কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারেন।
৩. জুলুমের অভিযোগ করা: কেউ অন্যায়ের শিকার হলে বিচারক, কর্তৃপক্ষ বা অধিকার ফিরিয়ে দিতে সক্ষম ব্যক্তির কাছে অভিযোগ জানানো গিবত নয়।
৪. ক্ষতি থেকে সতর্ক করা: বিয়ে, ব্যবসা, লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে কেউ পরামর্শ চাইলে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে তাকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো যেতে পারে।
৫. প্রকাশ্য গোনাহের বিষয়ে বলা: কেউ প্রকাশ্যে কোনো গোনাহ করলে সে প্রকাশ্য কাজের বিষয়ে সতর্ক করা বা প্রয়োজনীয় কথা বলা যেতে পারে। তবে তার গোপন অন্য দোষ আলোচনা করা যাবে না।
৬. পরিচয় বোঝানোর প্রয়োজন হলে: কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করার জন্য পরিচিত কোনো বৈশিষ্ট্য উল্লেখের প্রয়োজন হলে তা বলা যেতে পারে। তবে অপমান বা হেয় করার উদ্দেশ্যে বলা যাবে না।
অতএব, এসব ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই বলা উচিত। প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোচনা আবার গিবতের মধ্যে পড়ে যেতে পারে।










