কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর জেলার ১৮টি থানায় শুরু হওয়া এ অভিযান চলে রাত দেড়টা পর্যন্ত। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬২৪ জনকে আটক করা হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও বখাটেদের উৎপাত রয়েছে এমন এলাকাগুলোকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়।
আটকদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও রয়েছে। তাদের পূর্বের কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচংয়ে ৫০, মনোহরগঞ্জে ৪১, দাউদকান্দিতে ৫৯ এবং লাকসামে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি থানাগুলোর তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
অভিযানের খবর পেয়ে রাতে বিভিন্ন থানার সামনে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। আটক কিশোরদের বিষয়ে খোঁজ নিতে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক অভিভাবক থানার বাইরে অপেক্ষা করেন।
সম্প্রতি ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ব্যবস্থা জোরদারের দাবি ওঠে। ওই ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন কিশোর। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।










