হাঁটতে গেলে হাঁটুতে ব্যথা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়াতে অস্বস্তি—এসব উপসর্গকে অনেকেই বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা মনে করেন। তবে এসব সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে অস্টিওআর্থ্রাইটিস। এটি শুধু বয়স্কদের রোগ নয়; অতিরিক্ত ওজন, পুরোনো আঘাত, জয়েন্টের ওপর দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ এবং জীবনযাপনের বিভিন্ন কারণেও কম বয়সে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলো জয়েন্টের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়জনিত রোগ। এ রোগে জয়েন্টের গঠন ও কার্যকারিতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে হাড়ের প্রান্তের কার্টিলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাধারণত হাঁটু, হিপ, হাত ও মেরুদণ্ডের জয়েন্ট বেশি আক্রান্ত হয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়লেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। অতিরিক্ত ওজন, জয়েন্টে আগের আঘাত বা অস্ত্রোপচার, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ, পেশির দুর্বলতা, জয়েন্টের গঠনগত সমস্যা এবং পারিবারিক প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নড়াচড়ার সময় জয়েন্টে ব্যথা এ রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। হাঁটা, সিঁড়িতে ওঠানামা, বসা থেকে ওঠা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বাড়তে পারে। পাশাপাশি জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, নড়াচড়ার পরিসর কমে যাওয়া, ফোলা এবং নড়াচড়ার সময় শব্দ বা ঘর্ষণের অনুভূতিও হতে পারে।
চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, জয়েন্টের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ধরে রাখা। নিয়মিত ও পরিকল্পিত ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ। পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম, হাঁটা, সাইক্লিং বা পানিতে ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, ব্রেস বা অন্যান্য চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘদিনের জয়েন্ট ব্যথায় নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস মানেই চলাফেরা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকেই দীর্ঘদিন সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন। জয়েন্টের ব্যথাকে বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবে উপেক্ষা না করে সচেতন হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।










