কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার পর তুরস্কের মালিকানাধীন একটি শস্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। এ ঘটনায় দুই নাবিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন এবং একজন নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোমানিয়ার কর্মকর্তাদের বরাতে ইউরোনিউজ রোমানিয়া জানিয়েছে, সোমবার ইউক্রেনের একটি বন্দর থেকে শস্য নিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটি হামলার শিকার হয়।
হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেটি কৃষ্ণসাগরে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রোমানিয়ার উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। উদ্ধার অভিযানে রোমানিয়ার নৌযান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। এ সময় জাহাজে থাকা ১১ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে একজন নিখোঁজ নাবিকের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাস্থল রোমানিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে বলে জানা গেছে। হামলার সময় জাহাজটি রোমানিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করছিল। জাহাজটির নাম ‘রয়াদ মাম্মাদভ’। এটি তুরস্কের এমজি শিপিং ৫-এর মালিকানাধীন এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী ছিল। জাহাজটি ইউক্রেনের ওদেসা অঞ্চলের ইজমাইল বন্দর থেকে ইতালির রাভেনার উদ্দেশে যাচ্ছিল।
রোমানিয়ার ফ্রি নেভিগেটরস ইউনিয়নের প্রধান আদ্রিয়ান মিহালচিওইউ জানান, তার কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে আকাশ ও সমুদ্রপথ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, এটি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং যুদ্ধের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না।
আহত তিন নাবিকের বয়স ২২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাদের রোমানিয়ার কনস্তানৎসা শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তারা সচেতন ছিলেন।
এ হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, রাশিয়ার দুটি ড্রোন নিরপেক্ষ জলসীমায় অবস্থানরত বেসামরিক শস্যবাহী জাহাজটিতে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক নৌযানের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলেনস্কি আরও জানান, জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা ছিলেন। এ ঘটনায় কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতের মধ্যে এ অঞ্চলে ড্রোন হামলা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।
রোমানিয়ার কর্মকর্তারা এর আগে দেশটির আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের অভিযোগ তুলেছেন। কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্কসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। নতুন এই হামলার ঘটনায় নিখোঁজ নাবিকের সন্ধান এবং হামলার প্রকৃত উৎস শনাক্তে তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।










