কাতারের উত্তর উপকূলের অদূরে একটি বহুজাতিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে সমুদ্রসীমায় ট্যাঙ্কারটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। তবে হামলায় ঠিক কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আক্রান্ত জাহাজটির মালিকানা বা এটি কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, সেটিও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
হামলার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। কাতারের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটলেও দেশটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাণিজ্যিক নৌ পরিবহন বিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী অথবা পশ্চিমাঞ্চলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে এ ধরনের হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। ফলে কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে এই হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ পরিবহন মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটল। যুদ্ধ শুরুর আগে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, চলতি অক্টোবরের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৯টি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এই সংখ্যা সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত মোট হামলার প্রায় অর্ধেক বলে জানানো হয়েছে।
তবে হামলার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অঞ্চলটি থেকে দৈনিক গড়ে ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে। যুদ্ধের আগে এই রপ্তানির গড় ছিল দৈনিক প্রায় ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল।
নতুন করে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা










