সাভারের আশুলিয়ায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক তিনটি ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজনকে পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার সন্দেহের জেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য দুই নারীর মরদেহ একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ এবং একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পরপর তিন নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আশুলিয়া এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পৃথক ঘটনাগুলোর কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে পুলিশের একাধিক দল তদন্ত করছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়া ইউনিয়নের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার হাজি খালেকের বাড়ি থেকে আঁখি আক্তার নামে ২৪ বছর বয়সী এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। পারিবারিক কলহ এবং পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় নিহতের স্বামী জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর থেকে আঁখির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আঁখি আক্তার শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। তার স্বামী জাহিদ হাসান একই জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সিটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে বুধবার মধ্যরাতের পর আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে রোকসানা বেগম নামে ৪০ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দুবাইপ্রবাসী মকবুল হোসেনের স্ত্রী। প্রায় দুই মাস আগে তারা ওই এলাকায় নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস শুরু করেছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় পানির ট্যাংক দেখতে ভবনের ছাদে যান রোকসানা। দীর্ঘ সময় পরও তিনি নিচে না আসায় স্বজনরা খোঁজ শুরু করেন। পরে ছাদে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, আর্থিক লেনদেন এবং পরকীয়াসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বুধবার বিকেলে আশুলিয়ার শিমুলিয়ার পাগলাবাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তানিয়া খাতুন নামে এক পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং ওই বাসায় একাই থাকতেন। বিছানার ওপর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তার গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং শ্বাসরোধের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, তিন নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। স্ত্রী হত্যার ঘটনায় তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। অন্য দুটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।










