ছাত্রদল যত বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল হবে, বিএনপির রাজনীতি তত বেশি সমৃদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ছাত্রদলকে মেধা, জ্ঞান, দেশপ্রেম ও সাংগঠনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। কমল কুঁড়ি ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আবদুস সালাম বলেন, মেধার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও রাজনীতি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিজেদের যোগ্যতা, জ্ঞান এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। তাঁর মতে, ছাত্রদল বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ সংগঠন থেকেই মেধাবী, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ছাত্রদল থেকে উঠে এসে অনেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি, মন্ত্রিপরিষদ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও সংগঠনটির নেতাকর্মীদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক চর্চার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা, বই পড়া এবং জ্ঞান অর্জনের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ভূমিকা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি, সাহিত্য, শিল্প, কৃষি এবং বৈদেশিক নীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান রয়েছে। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই তিনি মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলে সংগঠনটি স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়নি। দীর্ঘদিনের নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম ও জেলজুলুমের মধ্যেও সংগঠনটি টিকে থাকার মাধ্যমে সাংগঠনিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, অতীতের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে পড়ে না থেকে ছাত্রদলকে ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বিএনপি, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং তিনি যাকে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি হিসেবে উল্লেখ করেন, তার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে স্কুল পর্যায় থেকেই মেধাবী ও যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মপদ্ধতির প্রশংসা করে আবদুস সালাম বলেন, বিভিন্ন সভার আগে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা, গবেষণা ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। দেশের উন্নয়ন, কৃষি, পানিসম্পদ এবং সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন আবদুস সালাম। আগামী পাঁচ বছর বাধাহীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে নিজের প্রত্যাশা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নেতাকর্মীদের দায়িত্ব কমেনি, বরং বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই সরকারের কার্যক্রম সফল করতে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে সরকার সমালোচনার মুখে পড়ে। দলের কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম বা সমস্যার অভিযোগ থাকলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।










