ভারতের সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আগামী সোমবার রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। শনিবার (১০ অক্টোবর) কেরালার আলাপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ তথ্য জানান সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল।
তিনি বলেন, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানাতে ইতোমধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও তাঁদের সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সমর্থনের সমালোচনা করেন বেণুগোপাল। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার চেষ্টা ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়াবে। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মোদি সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বেণুগোপাল আরও অভিযোগ করেন, ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষিত শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন স্থানে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, রেল যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারি পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, ভারতে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি কেরালায় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের প্যাডে বিজেপির প্রতীক পদ্মের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভোটাধিকার ও নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন আগামী দিনে কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।










