কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি। পরে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুমনকে কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের সামনে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাজমিনকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে তাকে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমিতে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর তাজমিনের মোবাইল ফোন নিয়ে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান সুমন। শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তাজমিনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি যশোরে হলেও পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত।
ঘটনাটি এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। শিশুটির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।










