কক্সবাজারের টেকনাফের ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরকে উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উখিয়ার জামতলি বাজার এলাকার একটি মসজিদ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে কিশোরদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া তিন কিশোর হলো শফিউল আলম (১৪), মো. আজাদ (১৩) ও মো. আরমান (১২)। তারা সবাই ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউসার সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে তিন কিশোর নিজ নিজ বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। তাদের ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ/৪ ব্লকের একটি মাদ্রাসায় পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তারা আর ফিরে আসেনি।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রোববার সকালে নিখোঁজ কিশোরদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ২১ নম্বর চাকমারকুল এপিবিএন ক্যাম্পকে জানানো হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর নিখোঁজ তিন কিশোরকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে এপিবিএন পুলিশের একটি বিশেষ দল। বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়ার জামতলি বাজার এলাকার একটি মসজিদে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেখান থেকে তিন কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউসার সিকদার জানান, উদ্ধার হওয়া কিশোরদের প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে তিন কিশোর কীভাবে জামতলি এলাকায় পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কেও পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা এবং কোনো শিশু নিখোঁজ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে এ ঘটনায়।










