সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা যাচাই এবং পুনরায় কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিমানবন্দরটি কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে সাম্প্রতিক হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জেদ্দা, মদিনা ও দাম্মামগামী এবং এসব শহর থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন ফ্লাইটের ওপর। ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানের বিমান চলাচল খাতের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, সোমবার পাকিস্তান ও রিয়াদের মধ্যে চলাচলের কথা থাকা ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং সেখানে অবতরণের কথা থাকা আরও অনেক ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত হয়েছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়েছে। তবে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিস্থিতির প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে ১৫৬টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩৭৪টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার এবং দেশটিতে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। চলমান সামরিক তৎপরতার কারণে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টি এখন নির্ভর করছে নিরাপত্তা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার ওপর। নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি চালুর নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, আল আরাবিয়া










