চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ, দীর্ঘদিনের অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে কমিটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আলোচনার বিষয় জানানো হয়েছে।
বৈঠকে তিনটি বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয়ে সদস্যরা গুরুত্ব দেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। একটি জাতীয় দৈনিকে বন্দরে পণ্যভর্তি কনটেইনার একের পর এক উধাও হওয়া এবং নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়টি কমিটির আলোচনায় উঠে আসে। বন্দরের নিরাপত্তা জোরদার এবং ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তি করার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং পরিচালন কার্যক্রমে বিদ্যমান জটিলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বন্দর পরিচালনায় ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কমিটির মতে, আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা কমানো সম্ভব।
মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা আপত্তি পর্যালোচনার সময় প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা মেয়াদপূর্তির স্থায়ী আমানত ফেরত আনা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকারি অর্থের সুরক্ষা, যথাযথ প্রকল্প পরিকল্পনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরউদ্দিন আহমদ অপু এবং মো. আখতারুজ্জামান মিয়াসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর নিরাপত্তা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর অগ্রগতি নির্ভর করবে।










