ইয়েমেনের রাজধানী সানার নির্দিষ্ট একটি এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হামলার হুমকির মধ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জোটটি। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি জানান, অভিযান শুরুর আগে নির্ধারিত এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যেতে সতর্ক করা হবে। তবে কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হবে কিংবা কখন তা শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।
এদিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে জোট। হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হুমকি ও হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোতে আরও হামলার হুমকি দিয়েছে হুথিরা। সানায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ঘোষণা আসার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে রিয়াদকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন। গোষ্ঠীটি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েকটি বিমান সংস্থা তাদের কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সোমবার রাতে রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর আগে রাজধানীর বাসিন্দারা আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন। পরে হুথিরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করে। তবে জোটের দাবি, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভূখণ্ডে হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অবস্থান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে জোটের বাহিনী।
সানায় বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তা সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।










