ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের পর ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) দুই নেতাকে পাঁচ দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিল্লিতে তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় দেশটিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আটক দুই নেতা হলেন ৩০ বছর বয়সী আশুতোষ রাঙ্কা ও ২৭ বছর বয়সী সৌরভ দাস। দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, তাঁরা বারবার জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেছেন এবং আইন লঙ্ঘন করেছেন। মঙ্গলবার দিল্লির জন্তর মন্তরে নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পর তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশ আরও দাবি করেছে, সামাজিক মাধ্যমে অন্যদের একই ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিতে ভোটার তালিকায় অনিয়ম করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী আটক নেতাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়। এ ঘটনায় তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষোচিত কাজ বলে মন্তব্য করেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও ভারতের সরকারকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রক্ষা এবং ভোটাধিকার ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগের সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আতিরা নামের এক নারী দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, আটককেন্দ্রে নিয়ে তাঁকে মুখমণ্ডল, তলপেট ও পিঠে আঘাত করা হয়। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম ভোটাররা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত, ভুয়া ও একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটারের নাম বাদ দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।










