ভারতের উত্তরাখণ্ডের আলোচিত অঙ্কিতা ভাণ্ডারী হত্যা মামলায় ন্যায়বিচারের দাবিতে দিল্লিতে অনশনরত নিহত তরুণীর বাবা-মাকে মধ্যরাতে আটকের ঘটনায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান। সেখানে ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করেন, মোদি সরকার নিষ্ঠুরতার সব সীমা অতিক্রম করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যে ব্যবস্থার কারণে অঙ্কিতা ভাণ্ডারী হত্যার শিকার হয়েছেন, সেই ব্যবস্থাই এখন তাঁর বাবা-মাকেও ছাড় দিচ্ছে না।
অঙ্কিতা হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার এবং উত্তরাখণ্ডের সাবেক এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের কাছে অনশন করছিলেন তাঁর বাবা-মা। এ সময় তাঁদের আটক করে পুলিশ। তবে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডের একটি রিসোর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করা ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা ভাণ্ডারীকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার চার দিন পর স্থানীয় একটি খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক পুলকিত আর্য এবং তাঁর দুই কর্মী সৌরভ ভাস্কর ও অঙ্কিত গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মামলায় অভিযোগ ওঠে, রিসোর্টে আসা এক প্রভাবশালী অতিথিকে বিশেষ সুবিধা দিতে অঙ্কিতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ওই কথিত অতিথির পরিচয় ঘিরে ‘ভিআইপি’ বিতর্ক তৈরি হয়। অঙ্কিতার পরিবার এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ মে আদালত পুলকিত আর্যসহ তিন আসামিকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে কথিত ভিআইপির পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এখনো আলোচনায় রয়েছে।
অঙ্কিতার বাবা-মাকে আটকের ঘটনায় নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ধ্রুব রাঠির বক্তব্যও বিষয়টি নিয়ে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।










