পাকিস্তানের পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত আরও ১৭ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্কুলের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় ছাদটি ধসে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন। নিহত ১৭ শিক্ষার্থীর বয়স ১৩ বছর বা তার কম বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পর হতাহতদের উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
পাকিস্তানে দুর্বল নির্মাণকাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে ভবন কিংবা ছাদ ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। চলতি বছরের জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়াল ধসে তিন শিশু নিহত হয়। একই মাসে লাহোরের বাঘবানপুরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত ও অন্তত পাঁচজন আহত হয়।
এর আগে জুনে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজী খান এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়।
পেশোয়ারের সর্বশেষ দুর্ঘটনা পাকিস্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নিরাপত্তা ও নির্মাণমান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।










