দিনভর কাজের ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব ও নানা চাপের মধ্যে সময় কেটে যায়। কিন্তু রাতে বিছানায় শুয়ে পড়লেই অনেকের মনে ভিড় করে নানা চিন্তা। আগামী দিনের কাজ, অতীতের ভুল কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ঘুম কেড়ে নেয়। শরীর ক্লান্ত থাকলেও মস্তিষ্ক যেন থামতে চায় না। এই পরিস্থিতিকে বলা হয় রাতের উদ্বেগ বা নাইটটাইম অ্যাংজাইটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে চারপাশ শান্ত হয়ে এলে দিনের ব্যস্ততায় চাপা পড়ে থাকা চিন্তাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও ব্যাহত হতে পারে।
রাতে দুশ্চিন্তা বাড়ার কারণ
দিনের বেলায় কাজ, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিভিন্ন দায়িত্ব মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে রাখে। রাতে এসব ব্যস্ততা কমে গেলে নিজের চিন্তা ও উদ্বেগের দিকে মন বেশি চলে যায়। ফলে ছোট বিষয়ও বড় সমস্যা বলে মনে হতে পারে।
এ ছাড়া শরীরের জৈবিক ছন্দ ও হরমোনের পরিবর্তন ঘুম এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় জেগে থাকা ও ঘুমের ঘাটতি মেজাজ খিটখিটে করে দিতে পারে এবং উদ্বেগ সামলানো কঠিন করে তুলতে পারে।
রাতের নিস্তব্ধতায় বুক ধড়ফড় করা, পেশিতে টান কিংবা দ্রুত শ্বাস নেওয়ার মতো শারীরিক অনুভূতিও বেশি চোখে পড়ে। কেউ কেউ এসব লক্ষণকে বিপদের সংকেত মনে করে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ক্যাফেইন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অতীতের কষ্টকর অভিজ্ঞতা এবং কিছু ওষুধও উদ্বেগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
দুশ্চিন্তা কমাতে যা করবেন
ঘুমানোর আগে মোবাইল ও টেলিভিশনের ব্যবহার কমানো, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা সহায়ক হতে পারে। ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া, হালকা বই পড়া কিংবা পরদিনের কাজের তালিকা লিখে রাখলেও চিন্তার চাপ কমতে পারে।
তবে দুশ্চিন্তা নিয়মিত ঘুমে বাধা দিলে, দীর্ঘদিন চলতে থাকলে কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ বুঝে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিলে উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।










