কুমিল্লার কিশোরী তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজুর বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা এক আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা ও নানা প্রশ্নের মধ্যে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ সামনে এসেছে। এর আগে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজারে আসে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাজুকে কুমিল্লায় নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। কুমিল্লা পুলিশ তাঁকে নিতে অস্বীকৃতি জানালে শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রাজুকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এরই মধ্যে তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বপ্রণোদিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেন কক্সবাজারের আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় করা তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।
আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, রাজু তাজমিনকে কক্সবাজারে না আনলে কুমিল্লায় যাওয়ার পথে এমন ঘটনা ঘটত না বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজু কিশোরীকে ভুল তথ্য দিয়ে ভালোবাসার অভিনয় করে কক্সবাজারে নিয়ে এসেছিলেন। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে এবং বিবেকের তাড়না থেকেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।
আদালতের নির্দেশের ফলে অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অভিযোগের সত্যতা, তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় রাজুর সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আদালতে অভিযোগ দায়ের বা মামলা রেকর্ডের নির্দেশকে অপরাধ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।










