নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলা গেজেটা
কক্সবাজারের ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহ আগুনে পুড়ে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
জেলা প্রশাসক জানান, রিসোর্টটিতে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। সেখানে আর কেউ আটকে নেই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আগুনে মরদেহগুলোর শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যাওয়ায় সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার বিকল্প নেই। এ জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সেগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। মরদেহের নমুনার সঙ্গে স্বজনদের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় টুপটুপ রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পেছনে কারও অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।










