সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলাম ও টাঙ্গাইলের সুইটি আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে বিয়ে করেননি এবং সুইটি নামে কাউকে তাঁরা চেনেন না।
নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে কলেজপড়ুয়া ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন বলে জানান তাঁর বাবা। তিনি বলেন, সৌদি যাওয়ার প্রায় এক মাস পর মক্কার মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরি পান নজরুল। তবে সাত থেকে আট মাস পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত রোববার বাবার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা বলেন নজরুল। সে সময় তিনি সমস্যায় থাকার কথা জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেননি। কয়েক দিন পর গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারে পরিবার।
নজরুলের বাবার অভিযোগ, দীর্ঘ কারাবাসের সময় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
অন্যদিকে, সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে। বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পরিবার এখনো কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পায়নি।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নূপুর জানান, সুইটির বোনের স্বামী আবদুল বারেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে তাঁকে শনাক্ত করেছেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
সুইটির বাবা ফজল মিয়া ও মা জহুরা বেগম মেয়ের মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো তাঁদের কাছে সৌদি আরব থেকে কোনো দাপ্তরিক তথ্য আসেনি।
ঘটনাটি নিয়ে দুই পরিবারের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুইটির মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া এবং নজরুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।










