নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলা গেজেটা
ফরিদপুরে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত দুই ‘জিনের বাদশা’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা কখনো জিনের বাদশা, কখনো তান্ত্রিক ও কবিরাজ পরিচয়ে প্রতারণা করতেন। পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়েও অর্থ হাতিয়ে নিতেন তারা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তাঁর পরিচিত বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দেওয়া হয়। এ সময় ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি প্রয়োজনে টাকা চেয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল।
এ ঘটনায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই ফরিদপুর। পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় উপপরিদর্শক মাজিদুল হক খান তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে প্রায় এক বছর পর প্রতারণার রহস্য উদ্ঘাটন করেন। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটির সদস্যরা ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করে প্রতারণার পর সেগুলো ফেলে দিতেন। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে জিনের বাদশা সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক বা কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখানো ছিল তাঁদের কৌশল।
চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। সাধারণ মানুষকে লোভনীয় প্রস্তাব ও সন্দেহজনক ফোনকলের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।










