চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রায় পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশ থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, অপহরণকারীরা এ সময়ে তাকে মাত্র একবার খাবার দিয়েছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি প্রেমবাজারে নিজের হার্ডওয়্যারের দোকান মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজে বসেছিলেন হাসান। এ সময় কালো পোশাকে ‘এসআরবি’ লেখা জ্যাকেট পরা চার ব্যক্তি দোকানে ঢুকে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেন। হাসানের নামে মামলা রয়েছে বলে দাবি করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে কয়েক দফায় যানবাহন বদলে তাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার চোখ ও হাত বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন হাসান। অন্যদিকে, তার স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপকের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
হাসানের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মুক্তিপণের জন্য ভিওআইপি নম্বর ব্যবহার করায় শুরুতে জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেয় পুলিশ।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফের লেদা এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছ থেকে হাসানকে উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে চাকরিচ্যুত সাবেক র্যাব সদস্য সুমন মুন্সিও রয়েছেন। পুলিশের দাবি, তিনি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন।
অভিযানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, ‘এসআরবি’ লেখা পাঁচটি কালো জ্যাকেট, দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










