২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ৬৪১ জনকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
জামালপুর-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন জানতে চেয়েছিলেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কতজনকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং এর বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান কী। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উল্লিখিত ১৪ বছরে মোট ১৯ হাজার ৬৪১ জনকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে শর্টগানের জন্য সবচেয়ে বেশি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। মোট ৭ হাজার ৩০৮টি শর্টগানের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। পিস্তলের জন্য দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ৩৪৭টি এবং রিভলবারের জন্য দেওয়া হয়েছে ৫৯৪টি লাইসেন্স।
এ ছাড়া রাইফেলের জন্য ৯৪৮টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য দেওয়া হয়েছে আরও ৫ হাজার ৪৪৪টি লাইসেন্স। সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র মিলিয়ে মোট লাইসেন্সের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৪১টি।
তবে সংসদে ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের পূর্ণাঙ্গ বছরভিত্তিক হিসাব দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তথ্য দেশের ৬৪টি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করে একত্র করতে হবে। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে সময় লাগায় প্রশ্নটির আংশিক উত্তর দেওয়া হয়েছে।
সরকারি এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশে বিভিন্ন শ্রেণির আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে কোন বছরে কতটি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তা জানা গেলে সময়ের সঙ্গে লাইসেন্স প্রদানের প্রবণতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেত।
সংসদে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, লাইসেন্সের সংখ্যার দিক থেকে শর্টগান ও পিস্তল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শ্রেণির মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে রিভলবার ও রাইফেলের লাইসেন্সের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কার্যালয়গুলোর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বছরভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুতে বিভিন্ন জেলার তথ্য একত্র করার প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব জেলা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পরই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া এই তথ্য দেশের গত ১৪ বছরে বৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে। তবে এসব লাইসেন্সের বছরভিত্তিক সংখ্যা, কোন শ্রেণির আবেদনকারীরা কতটি লাইসেন্স পেয়েছেন এবং বর্তমানে এসব লাইসেন্সের কতগুলো কার্যকর রয়েছে—এ ধরনের বিস্তারিত তথ্য এখনো সংসদে প্রকাশ করা হয়নি।










