ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এগ্রিমো পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়। কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়াকে এগ্রিমো বলা হয়।
আসাদ আলম সিয়াম অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২০ জুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ পান। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে নেদারল্যান্ডস থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ভিয়েনায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ফিলিপাইনসেও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন আসাদ আলম সিয়াম। এর আগে ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউরোপ উইংয়ের মহাপরিচালক, চিফ অব প্রটোকল, ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির রেক্টর এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব মিশনসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। নতুন দায়িত্বে আসাদ আলম সিয়ামের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা রয়েছে।










