শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁর ঘোষণার বিষয়টি স্বাধীনতার সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত বইমেলা উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে তৃণমূলের রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ২৫ মার্চ রাতে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে দেশ শেষ পর্যন্ত স্বাধীন হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন, মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ রয়েছে। সেই ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। একই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেই স্বাধীনতার নামে অশ্লীলতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাকস্বাধীনতার নামে অশ্লীল কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় এবং বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বই পড়ার অভ্যাস ও ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত বইমেলা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং তৃণমূল রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের আলোচনা ও মতভেদ রয়েছে। বুধবারের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তিনি তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের ঘোষণাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা ও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।










